“আমি স্বপ্ন দেখি এমন এক বাংলাদেশ, যেখানে ক্লাসরুম আর ক্যাম্পাস হবে মুক্ত চিন্তার আলোয় ভরপুর, যেখানে প্রতিটি মানুষ নিজের কণ্ঠস্বরকে নির্ভয়ে প্রকাশ করতে পারবে। আমার বিশ্বাস, প্রকৃত গণতন্ত্র তখনই প্রতিষ্ঠিত হবে যখন সাধারণ নাগরিক নিজেকে দেখবে দেশের শক্তি আর ভবিষ্যতের ভরসা হিসেবে।”

শৈশব ও পরিবার
মৌলভীবাজার জেলার তরুণদের কাছে পরিচিত মুখ মাজিদুল আলম চৌধুরী (শাহান), জেলা সদরের ৫নং আখাইলকুড়া ইউনিয়নের বেকামুড়া গ্রামের একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম। এই পরিবার থেকে মৌলভীবাজার জেলায় অজস্র মুক্তিযোদ্ধা, রাজনীতিবিদ ও সমাজসেবক সুনাম কুড়িয়েছেন। তার বাবা আব্দুল মুকিত চৌধুরী আদর্শবান শিক্ষক, সৎ ও মাটির মানুষ হিসেবে পরিচিত। মা প্রয়াত মখলিছুন্নেসা চৌধুরী ছিলেন বহুমুখী প্রতিভার অধিকারী। তিনি ছিলেন নীতিবান মানুষ এবং তাঁর নৈতিক মূল্যবোধ ছিল দৃঢ়। সন্তানদের নৈতিক ও চারিত্রিক উৎকর্ষ অর্জনের শিক্ষা দেওয়া ছিল তাঁর কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। মাজিদুল সততা, দায়িত্ববোধ এবং মানুষের পাশে দাঁড়ানোর শিক্ষা পরিবার থেকেই পাওয়া। পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে মাজিদুল চতুর্থ। ভাইদের সবাই শিক্ষিত, মেধাবী এবং যার যার জায়গায় প্রতিষ্ঠিত। শৈশব থেকেই মাজিদুল আলম চৌধুরী সামাজিক ও শিশু কিশোর সংগঠনের সাথে জড়িত ছিলেন।
শিক্ষাজীবন ও আত্মপ্রতিষ্ঠা
সুনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মৌলভীবাজার সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র। পঞ্চম শ্রেণীতে বৃত্তি পাওয়ার পর ২০০৬ সালে এসএসসি এবং মৌলভীবাজার সরকারি কলেজ থেকে ২০০৯ সালে এইচএসসি পরীক্ষায় কৃতিত্বের সঙ্গে উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে মেট্রোপলিটান ইউনিভার্সিটিতে কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং এ স্নাতক অধ্যয়ন করেন। শিক্ষাজীবনের পাশাপাশি তার আরেকটি বড় পরিচয় তৈরি হয় ছাত্র রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ করার মাধ্যমে। মেধাবী ছাত্র হওয়া সত্ত্বেও জাতীয়তাবাদী রাজনীতিতে সক্রিয় অংশগ্রহণ এবং বিভিন্ন ছাত্র আন্দোলনে অংশ নেওয়ার কারণে স্বৈরাচারী সরকারের অন্যায় জুলুমের শিকার হয়ে মূল্যবান প্রায় দুই বছর হারাতে হয়েছে তাকে।
রাজনৈতিক যাত্রার সূচনা
মাজিদুল আলম চৌধুরীর রাজনৈতিক যাত্রা শুরু হয় স্কুল জীবন থেকেই। ছাত্রদের সহায়তা এবং অধিকার আদায়ে তিনি স্কুল জীবন থেকেই বলিষ্ঠ কণ্ঠস্বর ছিলেন। স্কুলে পড়ার সময় তিনি অনুপ্রাণিত হন জাতীয়তাবাদী চেতনায়। পরবর্তীতে সক্রিয় হন ছাত্রদলের রাজনীতির সাথে। ২০০৮ সালে যখন ক্ষমতাসীন দলের ছাত্র সংগঠন ক্যাম্পাসে আতঙ্ক সৃষ্টি করে তখন মাজিদুল সাধারণ শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ান এবং সাহস জোগান। অন্যায়ের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানো এবং প্রতিবাদের ঝুঁকি ছিল প্রবল, কিন্তু তিনি বিশ্বাস করতেন রাজনীতি মানে মানুষের অধিকার রক্ষার সংগ্রাম।


দায়িত্ব ও নেতৃত্ব
বর্তমানে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল, মৌলভীবাজার জেলা শাখার সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করছেন মাজিদুল আলম চৌধুরী। এই পদ তার কাছে শুধু দায়িত্ব নয়, বরং মানুষের আস্থা এবং সংগঠনের প্রতি ভালোবাসার প্রতীক। মাজিদুল সবসময় চেষ্টা করে যাচ্ছেন সংগঠনকে শক্তিশালী করতে, ছাত্র সমাজকে ঐক্যবদ্ধ করতে এবং তরুণদের জন্য ইতিবাচক নেতৃত্বের পরিবেশ গড়ে তুলতে।
আদর্শ ও রাজনৈতিক দর্শন
তার দৃঢ় বিশ্বাস জাতীয়তাবাদই বাংলাদেশের আত্মা। শহিদ রাষ্ট্রপতি মেজর জিয়াউর রহমান (বীর উত্তম) শিখিয়েছেন একটি জাতি তখনই শক্তিশালী হয় যখন তারা নিজেদের ইতিহাস, সংস্কৃতি এবং স্বাধীনতার প্রতি গর্ববোধ করে।
জাতীয়তাবাদী আদর্শ তার কাছে শুধু রাজনীতি নয়। এটি তার জীবনের প্রতিটি মুহূর্তের অনুপ্রেরণা। তিনি স্বপ্ন দেখেন এমন একটি বাংলাদেশ যেখানে স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব অটুট থাকবে, প্রতিটি নাগরিক ন্যায়সম্মত ও সমান অধিকার ভোগ করবে, গণতন্ত্র এবং জনগণের মতামত সর্বাধিক গুরুত্ব পাবে।
মাজিদুল দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন ছাত্রসমাজই জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের প্রাণশক্তি। তিনি মনে করেন, যদি আমরা ঐক্যবদ্ধ হই, তবে অন্যায়, অবিচার ও স্বৈরাচারকে প্রতিহত করে সত্যিকারের গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে পারব।

“আমার লক্ষ্য শুধু সংগঠনের দায়িত্ব পালন নয়, আমার লক্ষ্য আগামী প্রজন্মকে সঠিক পথে নেতৃত্ব দেওয়া। আমি চাই একটি শক্তিশালী, ঐক্যবদ্ধ এবং দেশপ্রেমিক ছাত্রসমাজ, যারা বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের আগামী দিনের ভরসা হয়ে উঠবে।”
